বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

বিজয় দিবসে তাজউদ্দীন আহমেদ স্মৃতি বিজারিত বাড়ীতে আসেনি কোনো মুক্তিযোদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর প্রতিনিধি: মহান বিজয় দবসে স্বাধীনতার পর এই প্রথম বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের বাড়ি দরদরিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুরের জন্মভিটায় নেই কোনো দর্শনার্থী।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, দক্ষতা, সততা, যোগ্যতা, আদর্শবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের জন্মস্থান হিসেবে এই বাড়িটি ঐতিহাসিকভাবে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বাড়ির মূল ঘরটি মাটির তৈরি, যা তাঁর শৈশব স্মৃতি ও সরলতার পরিচয় বহন করে।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, বাড়িটির চারপাশে কোন সীমানা দেয়াল নেই। বাড়িটির চত্বর সকলের জন্য উন্মুক্ত, যা তাঁর উদারতার পরিচয় দেয়। বাড়ির পাশে মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিশাল খেলার মাঠ রয়েছে। যা নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি চর্চার পরিচায়ক। বাড়ির চারপাশের বৃক্ষরাজি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, পুকুর- তাঁর নান্দনিক মনের পরিচয় মেলে। বাড়িটির অবস্থান, সবুজ শ্যামলে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে হওয়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব তাঁর সাধারণ জীবন যাপনের ছায়া স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়িটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়।

শ্রীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, আমি প্রতি বছরের মতো এবারো এই বাড়ীতে এসেছি। আজকে এসে একেবারেই হতাশ। কেও নাই, মনে হচ্ছে মানুষ মুক্তিযোদ্ধকে ভুলেই যাচ্ছে।

বাড়ীর কেয়ারটেকার খোকা বলেন, আগে বিজয় দিবসে অনেক লোকজন আসতো। এবার কেও আসেনাই। মুক্তিযোদ্ধের শক্ত অবস্থান এতো তাড়াতাড়ি বিলিন হবে জানতামনা। এরআগে বিজয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাগন আসতো। এবার তারাও আসেননি।

পাশ্ববর্তী দরদরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আজকে তাজ উদ্দীন আহমেদের বাড়ীতে দর্শনার্থীদের দেখা যায়নি। তবে বিদ্যালয়ে বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে স্কুল শিক্ষক ও এলাকায় গন্যামান্য ব্যক্তিবর্গ বসে আলোচনা সভা করেছে।

স্থানীয় লেখক ও কলামিস্ট বাদশাহ আব্দুল্লাহ বলেন, এটি ( তাজউদ্দীন আহমদের বাড়ি) একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থান। বছর জুড়েই তাজউদ্দীন আহমদের বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। বিশেষ জাতীয় দিনগুলোতে ( ২৬ শে মার্চ, ১৪ ই ডিসেম্বর, ১৬ ই ডিসেম্বর) এ বাড়িতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি থাকে। প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে পিকনিক করতে আসে। গত এক বছর আগেও মানুষের উপচে পড়া ভীর ছিলো। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে এসে দর্শনার্থীরা অনুপ্রাণিত হয়। এবার কেন হলোনা জানিনা।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাপাসিয়া উপজেলা শাখা আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন খান বলেন, আমি মনে করি, যেহেতু তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগ করতেন, আওয়ামী লীগের লোকজন সবাই এদিক সেদিক পলাতক এবং তাদের উপর প্রচন্ডভাবে প্রেসার চাপ।বিশেষ করে তাজ উদ্দীন আহমদের বাড়ীতে কে বা কাহারা গেছে এসব চিন্হিত হতে পারে। এছাড়াও মানুষ এখন কোথাও যেতে নিরাপদ মনে করছেনা।

মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি ছিলোনা কেন জানতে চাইলে শামসুদ্দিন খান বলেন, আমাদের শহর কেন্দ্রীক অনুষ্ঠান ছিলো। এই জন্য যেতে পারিনি।

সংবাদটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ

สล็อตเว็บตรง